সাজন আহমদ সাজু
১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: স্বাধীনতার ঘোষক থেকে রাষ্ট্রনায়ক- সাজন আহমদ সাজু

বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ক’জন মানুষ গভীরভাবে জাতির ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁদের অন্যতম। তাঁর জন্মদিন শুধু একজন ব্যক্তির জন্মদিন নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ইতিহাস স্মরণ করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলীতে জন্মগ্রহণকারী জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন পেশাদার সেনা কর্মকর্তা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করলেও বাঙালির প্রতি বৈষম্য ও শোষণের বাস্তবতা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যা মুক্তিযুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে জিয়াউর রহমান সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। তাঁর সাহসিকতা, শৃঙ্খলা ও কৌশলগত দক্ষতা তাঁকে একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ও দক্ষ সামরিক নেতায় পরিণত করে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে তিনি রাজনৈতিক বহুত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ এবং মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ তাঁর শাসনামলের উল্লেখযোগ্য দিক। তাঁর “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” ধারণা দেশের সার্বভৌমত্ব, আত্মপরিচয় ও ধর্মীয় সহনশীলতার সমন্বয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দর্শন উপস্থাপন করে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি উৎপাদনমুখী নীতির ওপর জোর দেন। কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামভিত্তিক অর্থনীতির শক্তিশালীকরণ এবং স্বনির্ভরতার দর্শন ছিল তাঁর উন্নয়ন চিন্তার মূল ভিত্তি। “উৎপাদন বাড়াও, জনসংখ্যা কমাও”—এই স্লোগান সে সময় দেশের মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করে।
পররাষ্ট্রনীতিতে জিয়াউর রহমান একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। তিনি মুসলিম বিশ্ব, উন্নয়নশীল দেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। তাঁর উদ্যোগেই দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর ধারণা বাস্তব রূপ পায়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক মর্মান্তিক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি নিহত হন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে তাঁর এই করুণ মৃত্যু জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মৃত্যুর মাধ্যমে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতির মর্যাদা লাভ করেন এবং ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন সাহস, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের প্রতীক। তাঁর জীবন ও কর্ম আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় আলোচ্য ও প্রাসঙ্গিক। তাঁর জন্মদিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সেই মানুষটিকে, যিনি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পথে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন বদরুজ্জামান সেলিম

সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ সিলেট-এর আত্মপ্রকাশ

সিলেটে বইমেলা বন্ধ নয়, বিতর্কিত প্রকাশনী বাদ দেওয়ার দাবী ছিলো

এম এ হাফিজ সমছু’র মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের শোক

প্রবীণ রাজনীতিবিদ এম এ হাফিজ সমছু মিয়ার মৃত্যুতে সাপ্তাহিক আলোর অন্বেষণের শোক

এম এ হাফিজ সমছু মিয়ার মৃত্যুতে কমল সাহিত্য পরিষদ সিলেটের শোক

এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে সিলেট ছাত্রদলের নারীকর্মীরা

নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে বইমেলা আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে- কয়েস লোদী

শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলায় ৭ম দিনে রক্তদান কর্মসূচী অনুষ্টিত

জাউয়াবাজার ইউনিয়নবাসীকে জুনেদ আহমদ এর বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা

১০

শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ- মিফতাহ সিদ্দিকী

১১

শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলার ৫ম দিনে প্রাণবন্ত আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

১২

শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলা: ২য় দিনে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

১৩

সিলেটে শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলা শুরু হচ্ছে ৫ এপ্রিল

১৪

দেশ ও প্রবাসের মুসলিম উম্মাহকে কামরুল ইসলামে ঈদ শুভেচ্ছা

১৫

সিলেটে ঈদের জামাত কোথায় কখন অনুষ্ঠিত হবে

১৬

বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান সেলিমের ঈদ শুভেচ্ছা

১৭

দেশ ও প্রবাসের সকলকে মাহফুজুল করিম জেহীনের ঈদ শুভেচ্ছা

১৮

ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণ হয় যদি তা সবার মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়- মিফতাহ সিদ্দিকী

১৯

যুক্তরাজ্য প্রবাসী দুলন মিয়ার ঈদ শুভেচ্ছা

২০