অন্বেষণ ডেস্ক
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দাদুকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ তারেক রহমান কন্যার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে জাইমা রহমান তার প্রিয় দাদুকে নিয়ে স্মৃতি ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। পারিবারিক স্নেহ, ভালোবাসা ও স্মৃতির আবেশে ভরা লেখাটি পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

পোস্টটিতে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না থাকলেও মানবিক ও পারিবারিক আবেগের প্রকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী পোস্টটিতে মন্তব্য করে অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং আবেগঘন স্মৃতিচারণের জন্য জাইমা রহমানকে সাধুবাদ জানান।

উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তারেক রহমানের কন্যা। তিনি সময়বিশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা তুলে ধরে থাকেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

আলোর অন্বেষণ পাঠকদের জন্য জাইমা রহমানের পোস্টটি তুলে ধরা হলো-

‘দাদুকে নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো, পরিবারকে আগলে রাখা একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি কতটা মমতাময়ী ছিলেন! আমার বয়স তখন এগারো। আমাদের স্কুলের ফুটবল টিম একটা টুর্নামেন্ট জিতেছিল, আর আমি মেডেল পেয়েছিলাম। আম্মু আমাকে সরাসরি দাদু’র অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন, আমি যেন নিজেই দাদুকে আমার বিজয়ের গল্পটা বলতে পারি; তাকে আমার বিজয়ের মেডেলটা দেখতে পারি। আমি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে গোলকিপার হিসেবে কী-কী করেছি, সেটা বলছিলাম; আর স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম, দাদু প্রচন্ড মনোযোগ নিয়ে আমাকে শুনছেন। তিনি এতটাই গর্বিত হয়েছিলেন যে, পরে সেই গল্পটা তিনি অন্যদের কাছেও বলতেন।

আমি সব সময়ই জানতাম, আমার দাদু’র কাঁধে একটা দেশের দায়িত্ব। তবুও আমার স্মৃতিতে দাদু হলেন পরিবারকে আগলে রাখা একজন মমতাময়ী অভিভাবক। লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমার আর আমার কাজিনদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দাদু’। আমাদের ‘দাদু’। তিনি সব সময় আমাদের খেয়াল রাখতেন, আমাদের জন্য সময় বের করতেন, আর যেসব মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলোতে আমাদের সাহস দিতেন, উজ্জীবিত করতেন।

এই ছোট-ছোট মুহূর্তগুলো থেকেই আমি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পাই। সেটি হলো, নম্রতা, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।

বাংলাদেশের বাইরে কাটানো সতেরোটা বছর আমার জীবন অনেকভাবে বদলে দিয়েছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার শিকড় ভুলে যাইনি। কারণ, আমাদের সত্তার যে ভিত্তি, আমাদের যে সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ; সেটিই আমাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, পরিচয় বহন করে। প্রবাসে থাকা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও নিজ দেশের বাইরে, ভিন্ন দেশে অনেকগুলো বছর কাটিয়েছি। লন্ডনের দিনগুলো আমাকে বাস্তববাদী করেছে, একটা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। যদিও আমার হৃদয়-মন সব সময় বাংলাদেশেই ছিল।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান শিখিয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করা আমাকে শিখিয়েছে আরও অনেক বেশি; শিখিয়েছে দায়িত্বশীল হতে, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে। আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। প্রত্যেক ক্লায়েন্ট, প্রতিটি মামলা, প্রতিটি মানুষের সমস্যা, কারও না কারও জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অবহেলার শিকার হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই বিশ্বাস দিতে হয় যে, তাদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে, শোনা হচ্ছে, সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনে তার পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা যে শিক্ষাটা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না। এই প্রতিটা ধাপ আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে, মানুষ হিসেবে কেমন হতে চাই।

আমি আমার ‘দাদা’কে কখনো দেখিনি। কিন্তু তার সততা আর দেশপ্রেমের কথা সব সময় শুনে এসেছি। ‘দাদু’ আর ‘আব্বু’ সেই আদর্শটাই বয়ে নিয়ে চলেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ আগস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ সময় বলেছি কম, বরং শুনেছি বেশি। ছোট-ছোট কাজের মাধ্যমে তাদের বোঝা একটু হালকা করার চেষ্টা করেছি।

অনেকগুলো বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চাই; মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চাই। যেভাবে এগুনো দরকার, আমি চাই বাংলাদেশ আবারো সেভাবে সামনে এগিয়ে যাক, গর্জে উঠুক।

আমি জানি, আমার পরিবারকে ঘিরে দেশের জনগণের কৌতূহল রয়েছে, প্রত্যাশা রয়েছে। সেটি কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভারও রয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনুভব করি; পরিবারে, বন্ধুত্বে, সমাজে।

সংক্ষেপে, আমার নিজের ভাষায়, এই হলো আমার গল্প। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা নিজস্ব গল্প আছে। এই গল্পগুলোকে ধারণ করে, আমরা সবাই হয়তো একসঙ্গে বাকি পথটা হাঁটতে পারি।’

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিলেটে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের দায়িত্বে সাজন সাজু ও জুবায়ের আহমদ

সিলেটে মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন

সিলেট নজরুল একাডেমির সাধারণ সভা ৮ জুন সোমবার

জালালপুরে ‘সিলেটি পাঠাগার’-এর শুভ উদ্বোধন

কলম কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, সমাজ পরিবর্তনেরও শক্তিশালী হাতিয়ার- বদরুজ্জামান সেলিম

আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ সিলেটের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন বদরুজ্জামান সেলিম

সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ সিলেট-এর আত্মপ্রকাশ

সিলেটে বইমেলা বন্ধ নয়, বিতর্কিত প্রকাশনী বাদ দেওয়ার দাবী ছিলো

এম এ হাফিজ সমছু’র মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের শোক

১০

প্রবীণ রাজনীতিবিদ এম এ হাফিজ সমছু মিয়ার মৃত্যুতে সাপ্তাহিক আলোর অন্বেষণের শোক

১১

এম এ হাফিজ সমছু মিয়ার মৃত্যুতে কমল সাহিত্য পরিষদ সিলেটের শোক

১২

এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে সিলেট ছাত্রদলের নারীকর্মীরা

১৩

নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে বইমেলা আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে- কয়েস লোদী

১৪

শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলায় ৭ম দিনে রক্তদান কর্মসূচী অনুষ্টিত

১৫

জাউয়াবাজার ইউনিয়নবাসীকে জুনেদ আহমদ এর বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা

১৬

শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ- মিফতাহ সিদ্দিকী

১৭

শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলার ৫ম দিনে প্রাণবন্ত আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

১৮

শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলা: ২য় দিনে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

১৯

সিলেটে শহীদ জিয়া ২য় গ্রন্থমেলা শুরু হচ্ছে ৫ এপ্রিল

২০