স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোর অন্বেষণ প্রদত্ত “আলোর অন্বেষণ সাহিত্য পদক ২০২৬” আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান ইসি কমিটির নির্বাহী সদস্য কবি ও গবেষক অধ্যাপক দেওয়ান এ এইচ মাহমুদ রাজা চৌধুরী।
আলোর অন্বেষণ সাহিত্য পদক প্রদান বোর্ড গুণি এই সাহিত্য বোদ্ধাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করেন।
সিলেট দরগা গেইট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে চলমান ৬ষ্ট আলোর অন্বেষণ বইমেলা ২০২৬ এর নবম দিন ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় বইমেলা মঞ্চে আনুষ্ঠানিক ভাবে আলোর অন্বেষণ সাহিত্য পদক প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।
এক নজরে দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী:
দেওয়ান এ এইচ মাহমুদ রাজা চৌধুরী কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক দুইবারের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কমিটির নির্বাহী সদস্য, সিলেট মোবাইল পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান কমিটির চেয়ারম্যান, সিলেট ক্যালিগ্রাফি সোসাইটির সভাপতি, সিলেট লেখক পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়ীত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সিলেট মেট্রোপলিটন ল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ও সিলেট মেট্টপলিটন কিন্ডারগার্টেন স্কুলেরও তিনি প্রতিষ্ঠাতা। তিনি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও অপরাধ পুনর্বাসন সংস্থার আজীবন সদস্য। সিলেটের সাহিত্য সংস্কৃতি পাড়ার এক পরিচিত নাম দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী।
মাহমুদ রাজা চৌধুরী স্কুল জীবন থেকে লেখালেখি শুরু করেন। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রপত্রিকায় তাঁর অনেক কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁর দুটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ (‘দশ আকাশে একশ তারা’ ও ‘দিগন্ত আজ বৃষ্টিভরা’ প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৯০ সালে তিনি বিভিন্ন প্রিন্ট পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি দর্পন থিয়েটার মাধ্যমে মঞ্চ নাটক করেন। সাংবাদিকতা ছাড়াও তিনি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও সমাজসেবা কার্যক্রমের সাথে জড়িত আছেন। পাশাপাশি একাধিক সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথেও তিনি সম্পৃক্ত। তিনি একাধারে একজন লেখক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্য-সংস্কৃতিসেবী, শিক্ষাণুরাগী ও সমাজসেবক এবং একজন শক্তিমান সংগঠক।
এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সাময়িকী ও স্মারক সম্পাদনা করেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে তিনি ‘পবন’ সাহিত্য পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, ১৯৯৭ সালে সিলেট লেখক পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত ‘ তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বায়নে আমাদের সাহিত্য’ স্মারক গ্রন্থের সম্পাদক, ১৯৯৮ সালে ‘সিলেট নগর নয় মহানগর’ ভোগলিক সমীক্ষা স্মারকের সম্পাদক ও প্রাচীন সাহিত্য পত্রিকা ‘আল-ইসলা’র প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সিলেট মোবাইল পাঠাগারের সাপ্তাহিক সাহিত্যপত্র ”ছায়ালাপ’র সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও কেমুসাস থেকে প্রকাশিত ‘আল-ইসলাহ’র সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।
শিক্ষানুরাগী ও রাজনীতিবিদ দেওয়ান ছনুবর রাজা চৌধুরী, রাজনীতিবিদ দেওয়ান আছফ, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, বিদ্যাবিনোধ ও ভাষাসৈনিক দেওয়ান আহবান চৌধুরী (এমএলএ-১৯৩৮ আসাম), সাংবাদিক, ভাষাসৈনিক, রাজনীতিবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, কুমুদ রঞ্জন চৌধুরী (আইজিপি ১৯২৫ আসাম), বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি এটর্নি জেনারেল দেওয়ান এম জামান, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনর অকুতোভয় সৈনিক জমিদার কুশাল রায় চৌধুরী (১৭৮৩-১৭৯৩) তাদের উত্তরসূরী দেওয়ান এ এইচ মাহমুদ রাজা চৌধুরী।
মাহমুদ রাজা চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের পানাইল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দোহালিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, শাহ অলিউল্লাহ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, লেখক, গীতিকার ও গবেষক দেওয়ান মুফিদ রাজা চৌধুরী ও হযরত শাহজালাল (র.) সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সৈয়দ শাহধরং (মৌলভীবাজার কাজির বাজার) বংশধর সৈয়দা ছইফা বেগমের প্রথম সন্তান।
মন্তব্য করুন