একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া ইন্তেকাল করেছেন। শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন কন্যা অঞ্জনা বড়ুয়া। তিনি জানান, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন সুকুমার বড়ুয়া। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং ফুসফুসে পানি জমার কারণে চিকিৎসা চলছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সীমিত আয়ের মাঝেই ১৯৬৩ সালে ঢাকার তোপখানা রোডে একটি ছোট ঘরে বসবাস করে পুরোদমে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন।
শিশু-কিশোর সাহিত্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর ও মুকুলের মাহফিলসহ বিভিন্ন সাহিত্য প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত লিখতেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
প্রায় ছয় দশক ধরে ছড়া রচনার মাধ্যমে সুকুমার বড়ুয়া বাংলা শিশু সাহিত্যে এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেন। তার লেখায় ব্যঙ্গ, রসিকতা, নৈতিক শিক্ষা, পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সামাজিক-রাজনৈতিক সচেতনতা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এ কারণে তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়াসম্রাট’সহ নানা অভিধায় পরিচিতি লাভ করেন।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার (দুই খণ্ড), যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা এবং জীবনের ভেতরে বাইরে।
বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে তাকে বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক প্রদান করা হয়।
প্রিয় এই ছড়াকারের মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মন্তব্য করুন