আজ ১২ ডিসেম্বর।
বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে আজকের দিনে গোলাপগঞ্জ উপজেলা শত্রু মুক্ত হয়েছিলো। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ একটি অতুলনীয় অধ্যায়। এটি শুধুমাত্র সামরিক বিজয় নয়, বরং একটি জাতির আত্মপরিচয়, সাহস, একতা ও ত্যাগের মহাকাব্য। এই যুদ্ধের প্রতিটি ঘটনা আমাদের শেখায় যে, স্বাধীনতা সহজে অর্জিত হয় না, এটি আসে বীরত্ব, ধৈর্য এবং অটল মনোবল দিয়ে। সিলেট অঞ্চলের গোলাপগঞ্জ মুক্তির ঐতিহাসিক ঘটনা সেই সত্যের চমকপ্রদ প্রমাণ।
১২ ডিসেম্বরের গোলাপগঞ্জবাসীর জন্য অনন্য গৌরবময় দিন।১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামের এই দিনে পাক হানাদার মুক্ত হয় গোলাপগঞ্জ উপজেলা।
১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর পাক হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হয় সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা। এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জি এন চৌধুরী হুমায়ুন। পতাকা উত্তোলনের মুহূর্তে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে থেকে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং হাজার হাজার উল্লসিত মানুষ রাজপথকে আনন্দের স্রোতে ভরে তোলে। তাদের কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়, যা স্বাধীনতার জন্য নিরলস সংগ্রামের বিজয়ী সুর হিসেবে প্রতিফলিত হয়।
গোলাপগঞ্জের মুক্তি শুধু সামরিক বিজয় নয়, এটি ছিল মানুষের মানসিক মুক্তির প্রতীক। মুক্তির পতাকা উত্তোলন ও আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে মানুষ দেখিয়েছিল যে, তাদের হৃদয়ে স্বাধীনতার লাল-সবুজ চেতনা অমলিন এবং জাতি যে কোনও শোষণ থেকে মুক্ত হতে পারে। আজও গোলাপগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্মৃতিকে জীবন্ত রাখে।
গোলাপগঞ্জ মুক্তি আমাদের স্মরণ করায় যে, স্বাধীনতা কোনো উপহার নয় এটি অর্জন করা হয় ত্যাগ, সাহস এবং মানুষের একাগ্র চেতনার মাধ্যমে। এই ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, জাতি যখন একত্রিত হয়, তখন নিঃসন্দেহে যে কোনও শোষণ ও দমন নীতিকে পরাজিত করা সম্ভব।
মুক্তিযুদ্ধের এই গৌরবময় অধ্যায় কেবল অতীতের স্মৃতি নয়। এটি আমাদের ভবিষ্যতের প্রেরণা। প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগ আমাদেরকে শেখায় দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব। গোলাপগঞ্জ ও বালাগঞ্জের ঘটনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতার জন্য লড়াই শুধুমাত্র অস্ত্রের মধ্য দিয়ে নয়, মানুষের সাহসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের মধ্য দিয়েও জয়লাভ করা যায়।
মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি ঘটনা, প্রতিটি শহীদ এবং প্রতিটি বিজয়ী মুহূর্ত আমাদের ইতিহাসের অমুল্য সম্পদ। গোলাপগঞ্জ মুক্তি সেই অমূল্য অংশ, যা আমাদের চেতনায় চিরস্থায়ী প্রেরণা হিসেবে থাকে। এই স্মৃতি শুধু অতীতের প্রতিফলন নয়, এটি আমাদেরকে শেখায় যে, সত্যিকারের স্বাধীনতা অর্জন করতে হলে জাতি হতে হবে একত্রিত, সাহসী এবং ন্যায়ের পক্ষে অটল।
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিক্ষা দেয়, যে দেশের জন্য লড়াই করা হয়, সেই দেশই সত্যিকারের স্বাধীনতা ও গৌরব অর্জন করে। গোলাপগঞ্জ বীরত্ব সেই শিক্ষার জীবন্ত প্রতীক। তাদের সাহস এবং আত্মত্যাগ আমাদের হৃদয়ে চিরকাল গর্জন করবে, “জয় বাংলা” এই মহিমার সঙ্গীতে।
মন্তব্য করুন