জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য আসন সমঝোতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল বাড়ছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, তবে দলীয় পর্যায়ের আলোচনা–পর্যালোচনায় বেশ কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
দলীয় সূত্রের মতে, বৃহত্তর ইসলামি ঐক্য গড়ে তুলতে ৩০০ আসনের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ শরিক ও সমমনা দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াত। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের কয়েকটি আসনকে কেন্দ্র করে এখন চলছে সক্রিয় আলোচনা, অভ্যন্তরীণ জরিপ ও কৌশলগত বিশ্লেষণ।
সিলেট বিভাগের মোট ১৯টি আসনের মধ্যে ছয়টি ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। এসব আসনে সমমনাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সেগুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে জানা গেছে। দলটির সূত্র বলছে, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
গুঞ্জনে থাকা ছয়টি সম্ভাব্য আসন হলো—
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর)
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট)
সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর)
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরিগঞ্জ)
হবিগঞ্জ-৩ (সদর, লাখাই, শায়েস্তাগঞ্জ)
এ ছাড়া আলোচনার মধ্যেই হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে প্রার্থী পরিবর্তনও করেছে জামায়াত।
জামায়াতের সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে নিয়ে একটি বৃহত্তর নির্বাচনি সমঝোতার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আলোচনায় আরও রাজনৈতিক দল যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
সমমনা সাতটি দলের সঙ্গে পাঁচ দফা দাবি ঘিরে যৌথ কর্মসূচি পালন করে সরকারকে চাপের মুখে রেখে নির্বাচনকেন্দ্রিক অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশল নিয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে প্রতিটি আসনে জরিপ চালিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতিও চলছে।
নেতারা বলছেন, চলমান আলোচনার ভিত্তিতেই ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে—কয়টি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে এবং কারা মনোনয়ন পাবেন তা তখনই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
মন্তব্য করুন