২০২৫ সালের শীত ইতোমধ্যেই উপস্থিতির জানান দিচ্ছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা ও শিশির পতন বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নভেম্বরের শেষ দিকে থেকেই শীতের তীব্রতা বাড়ছে এবং ডিসেম্বরের শুরুতে প্রথম শৈত্যপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে। এবারের শীত ২০২৫-২৬ মৌসুমে কিছুটা নাটকীয় চক্রের মধ্য দিয়ে যাবে বলেও পূর্বাভাসে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, মাঝে মাঝে তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও একাধিক দুর্বল ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
শীতের আগমনকে ঘিরে মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যস্ততা বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে জাকজমক বেড়েছে গরম কাপড় কেনাকাটার। রাতের অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে দ্রুত। সকালের ঘন কুয়াশা ও ভেজা শিশির জমাট বাধা পরিবেশ জানিয়ে দিচ্ছে দেশজুড়ে শীত এখন আর দূরে নয়।
সিলেট অঞ্চলে শীতের আগমন প্রকৃতিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। টিলাময় ভূখণ্ড, চা-বাগান পরিবেশ এবং পাহাড়ি বাতাসের কারণে এখানে রাত ও ভোরের শীত অন্যত্রের তুলনায় বেশি অনুভূত হয়। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে সিলেটে ঘন কুয়াশা দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দিচ্ছে, ফলে সকালবেলার যান চলাচলে সতর্কতা প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। জাফলং, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাটসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে শীতের কামড় বেশি, শিশিরপাতও তুলনামূলকভাবে তীব্র।
শীতের এই সময়টিকে অনেকেই উপভোগ্য মনে করলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি সবসময়ই থাকে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা। ভোর বা রাত্রে বাইরে বের হলে গরম পোশাক অবশ্যই পরা জরুরি। মাথা ঢাকার টুপি, গরম মোজা ও হাতমোজা ব্যবহার করতে ডাক্তাররা পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল, গরম স্যুপ, শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা প্রয়োজন। শীতে অনেকেই পানি কম পান করেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় তাই পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি।
কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাইরে দীর্ঘক্ষণ থাকা এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির etiquette মানা এবং ঘরে বাতাস চলাচলের সুযোগ রাখা দরকার। ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ও লিপ বাম ব্যবহারের কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা।
সিলেটে শীত মৌসুম মানেই পর্যটকদের ভিড়। তবে ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলায় সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। তাই ভ্রমণে খুব ভোরে রওনা না হওয়াই ভালো। কৃষকদের ক্ষেতেও এই সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন শিশিরপাত ও ঠান্ডায় বোরো ধানের চারা ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকে, আর চা-বাগান এলাকায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য রক্ষা ও চা-পাতা সুরক্ষায় অতিরিক্ত যত্ন প্রয়োজন।
সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য শীত সবসময়ই চ্যালেঞ্জ হয়ে আসে। তাই শীতবস্ত্র বিতরণ ও মানবিক সহায়তায় সমাজের প্রত্যেক সক্ষম মানুষের এগিয়ে আসা জরুরি।
সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালের শীত তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও নীরবতা নিয়ে হাজির হলেও সঙ্গে আছে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতিদিনের জীবনযাপনে সতর্কতার প্রয়োজন। সচেতনতা, প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীলতা এই তিনটি মেনে চললেই শীতকাল হতে পারে নিরাপদ, আরামদায়ক ও উপভোগ্য।
মন্তব্য করুন