সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের সাবেক মেয়র এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরীকে সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে চারটায় রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন।
গত ৫ নভেম্বর রাতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁকে সিলেট–৪ আসনে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন। এর পর ৭ নভেম্বর থেকেই আরিফুল স্থানীয় এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা শুরু করেন।
এর আগে তিনি সিলেট–১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং ইতোমধ্যে সেখানে প্রচারণাও করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে ঐ আসনে চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রার্থী ঘোষণার পর তিনি দ্রুত ঢাকায় ছুটে যান, পরে তিনি গণমাধ্যমে দাবি করেন দল তাঁকে সিলেট–৪ আসনে প্রচারণা চালাতে বলেছে। এ দাবি ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশও করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘদিনের আলোচনা ও দ্বিধা–সংকটের পর শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সব জটিলতার অবসান ঘটেছে।
আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রদল থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন সংগঠনে প্রভাবশালী ভূমিকায় ছিলেন।
সিলেট–৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, গোয়াইনঘাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিমের সহধর্মিণী জেবুনাহার সেলিম এবং জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হেলাল উদ্দিন।
বিএনপির এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সিলেট- ৪ আসনকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক জটিলতার অবসান ঘটল।
মন্তব্য করুন