আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ইসলামী ও সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, অতীতে যারা নির্বাচন ইস্যুতে বিভিন্ন অবস্থান নিয়েছিল, তাদের সাম্প্রতিক কথাবার্তা সন্দেহ তৈরি করছে। জনগণ যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশকে লুটপাট থেকে রক্ষা করে দেশপ্রেমিক জনগণের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই আট দলের যৌথ উদ্যোগ।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। দুর্নীতি, সম্পদ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়মের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অব্যাহত ‘অপশাসন’ দূর করা এখন সময়ের দাবি।
সমমনা ইসলামি দলগুলোকে আট দলের ঐক্যবদ্ধ কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যেখানে আছেন, সেটা আপনাদের প্রকৃত অবস্থান নয় ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মেই আপনাদের জায়গা।”
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করিম বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে তাদের সমাবেশে জনগণের উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে পাঁচ দফা দাবির পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। তিনি অতীতের সহিংসতার ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।
খেলাফতে মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশের ইসলামি আন্দোলনের নেতারা ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন থেকেছেন। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও বিদেশি প্রভাবের সহায়তায় নতুন করে ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা জনগণ প্রতিরোধ করবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন শুধু প্রতীক নির্বাচন নয়; এটি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জনসমর্থন যাচাইয়ের একটি সুযোগ। এজন্য আট দলের নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের কাছে সমর্থন চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগর শাখার নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল। সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।
অনুষ্ঠানে ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিসহ আট দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মন্তব্য করুন